বুধবার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ - ১৯:৪০
যারা রজব মাসে রোজা রাখতে অক্ষম, তারা কী করবেন?

রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিস অনুযায়ী, কেউ যদি অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা অথবা নারীদের ঋতুকালীন অবস্থার কারণে রজব মাসে রোজা রাখতে না পারেন, তবে তিনি বিকল্প আমলের মাধ্যমে রোজার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করতে পারেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: প্রয়াত বিশিষ্ট আলেম আয়াতুল্লাহ মুজতবা তেহরানি (রহ.) তাঁর এক দরসে আখলাকে (নৈতিক শিক্ষা) এ বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাঠকদের উপকারার্থে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—

এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি অসুস্থতা বা দুর্বলতার কারণে রজব মাসে রোজা রাখতে অক্ষম হয়,” অথবা “যে নারী ঋতুকালীন অবস্থায় থাকায় রোজা রাখতে পারে না” “সে কী করলে আপনার বর্ণিত সেই সওয়াব অর্জন করতে পারবে?”

রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তরে বলেন— “সে যেন প্রতিদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একজন দরিদ্রকে এক টুকরো রুটি সদকা করে।”

এরপর তিনি শপথ করে বলেন— “সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! কেউ যদি প্রতিদিন এই সদকা আদায় করে, তবে সে অবশ্যই সেই সওয়াব লাভ করবে, যা আমি বর্ণনা করেছি।”

এরপর আবার প্রশ্ন করা হলো— “হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! যদি কেউ আর্থিকভাবে এই সদকা দেওয়ার সামর্থ্যও না রাখে, তবে সে কী করবে?”

তিনি বলেন— “সে যেন রজব মাসের প্রতিদিন—পূর্ণ ত্রিশ দিন ধরে—এই তাসবিহটি একশ বার পাঠ করে।”

তাসবিহটি (যা মুহাদ্দিস কুম্মিও বর্ণনা করেছেন) হলো—

 سُبْحَانَ الْإِلَهِ الْجَلِیلِ سُبْحَانَ مَنْ لَا ینْبَغِی التَّسْبِیحُ إِلَّا لَهُ سُبْحَانَ الْأَعَزِّ الْأَکْرَمِ سُبْحَانَ مَنْ لَبِسَ الْعِزَّ وَ هُوَ لَهُ أَهْلٌ

সুবহানাল ইলাহিল জালিল, সুবহানা মান লা ইয়ামবাগি আত-তাসবিহু ইল্লা লাহু, সুবহানাল আ‘জ্জিল আকরাম,
সুবহানা মান লাবিসাল ‘ইজ্জা ওয়া হুয়া লাহু আহল। (অর্থ: মহান ও মহিমাময় আল্লাহ পবিত্র; তিনি ছাড়া আর কারও তাসবিহ করা শোভন নয়। সর্বাধিক সম্মানিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহ পবিত্র। তিনি মহিমায় ভূষিত, আর তিনিই এর যোগ্য।)

এরপর আয়াতুল্লাহ মুজতবা তেহরানি (রহ.) ব্যাখ্যা করে বলেন— মানুষ বাহ্যিক আমল ও তার অন্তর্নিহিত বাস্তবতার মধ্যকার সম্পর্ককে গুণগত বা পরিমাণগতভাবে পরিমাপ করতে পারে না। অর্থাৎ, কোনো আমলের অন্তর্নিহিত বাস্তবতা প্রকাশ পেলে তার স্তর, তীব্রতা বা দুর্বলতা নির্ধারণ করা মানুষের সাধ্যের বাইরে। কারণ, বাহ্যিক আমল ও তার আধ্যাত্মিক ফল ভিন্ন দুই জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং প্রত্যেকটি নিজ নিজ জগতের নিয়ম অনুযায়ী কার্যকর হয়। এই বাস্তবতা যেমন পাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি নেক আমলের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।

তথ্যসূত্র: বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৯৪, পৃষ্ঠা ৩১

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha